মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd অক্টোবর ২০১৮

বিটিএমসি তে স্বাগত

প্রাগৈতিহাসিক থেকে অষ্টম সেঞ্চুরীতে শিল্প বিপ্লব পর্যন্ত পূর্ব বাংলা বস্ত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণ ছিল । পাক-ভারত উপ-মহাদেশে বংশানুক্রমিকভাবে  সুদক্ষ কারিগর (Artisan) গ্রুপ আকারে কুটির শিল্প হিসেবে বস্ত্র উৎপাদন করত। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান এবং ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ায় পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যুদয় হয়। পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তানে বেকারত্ব ও সস্তা শ্রমিক হওয়ায় বেসরকারী অধিকাংশ বস্ত্রশিল্প পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপিত হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসনের অবসান হয়।

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ The Bangladesh Industrial Enterprises (Nationalization) Order No 27 of 1972 (President Order No 27 of 1972) এর ক্ষমতাবলে Bangladesh Textile Mills Corporation (BTMC) গঠন করা হয়। President Order No 27 of 1972 এর মাধ্যমে জাতীয়করণকৃত  ৭৪টি মিল নিয়ে ১৯৭২ সালের ১লা জুলাই হতে বিটিএমসি’র আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ নং ২৭,১৯৭২ এ বিটিএমসি’র কার্য্যাবলি প্রশাসনিক বিষয়াদি ও সাধারণ নির্দেশনা পরিচালক পর্ষদের উপর ন্যস্ত হয়, যার প্রধান চেয়ারম্যান। এছাড়াও সময় সময় জারীকৃত সরকারি নির্দেশের আলোকে করপোরেশনের  কার্য্যাবলি সম্পাদন করা হয়।

বিটিএমসি গঠনের মূল লক্ষ্য জাতীয়করণকৃত এবং সরকারি বস্ত্র খাতের মিলগুলোর ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা, তদারকি, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণকরণ,নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও উন্নয়নকরণ। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি,শিল্প স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, শিল্পায়নের মাধ্যমে বিদেশী নির্ভরতা হ্রাস করা এবং সর্বোপরি জনগনের কর্ম সংস্থানের লক্ষ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিটিএমসি’র মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ১২টি শ্রমনিবিড় বস্ত্র শিল্প ( Labour- intensive Textile Mills)  স্থাপন করা হয়। ফলে বিটিএমসি’র মিল সংখ্যা দাড়ায় ৮৬টি। দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০৫টি বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বিটিএমসি’র মিলগুলোতে উৎপাদিত সুতা এবং কাপড় সাধারণ ভোক্তাদের নিকট ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করা হতো। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের সুতা ও বস্ত্রের চাহিদা পূরণে  বিটিএমসি’র মিলগুলো সিংহভাগ ভূমিকা পালন করেছে। 

বিশ্ব অর্থনীতি পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি শিল্প মালিক এবং দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৯8২ সালের বিরাষ্ট্রীকরণ ‍শিল্প নীতির আওতায় জাতীয়করণকৃত বস্ত্র মিলগুলোর মধ্যে ৩০টি মিল সাবেক বাংলাদেশী মালিকদের নিকট ফেরৎ দেয়া /হস্তান্তর করা হয় এবং ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৯সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে  ১২টি মিল বেসরকারীকরণ করা হয়। লিকুইডেশন সেল কর্তৃক ৩টি মিল বিক্রি ও বিক্রির জন্য লিকুইডেশন সেলে ৪টি মিল ন্যস্ত রয়েছে। এছাড়াও শিল্পখাতে শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করে ৯টি মিল শ্রমিক-কর্মচারীদের মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়। এভাবে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে বিটিএমসি’র মোট ৫৮টি মিল বিক্রি, হস্তান্তর ও অবসায়ন করা হয়। 

বিটিএমসি’র নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২৫টি মিল রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি মিল ভাড়ায় পরিচালনা চালু আছে। ২টি মিল (খুলনা টেক্সটাইল মিলস, খুলনা ও চিত্তরঞ্জন কটন মিলস, নারায়নগঞ্জ) “টেক্সটাইল পল্লী” স্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে। বিক্রিত ও হস্তান্তরিত মিলগুলোর মধ্যে পুনঃগ্রহণকৃত ৭টি মিলসহ  ১৫টি মিল বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় বিটিএমসিতে আছে। এছাড়াও জাতীয়করণের তালিকায় ৩টি বাস্তব সম্পদবিহীন (নামসর্বস্ব) বিটিএমসি’র তালিকায় রয়েছে।

মিলগুলো ছাড়াও বিটিএমসির নিজস্ব উদ্যোগে এবং “টিআইডিসি” (Textile Industries Development Center) নামে সাভারে একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। উক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেশের সরকারি –বেসরকারি কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিকদের কারিগরিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হতো।  কেন্দ্রটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের “নিট্রেড” প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়।  “নিট্রেড” প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত গভর্নিং বডির মাধ্যমে ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রাক্ট-এ পরিচালনার জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৮ সালে সম্পাদিত একটি  চুক্তির মাধ্যমে  বিটিএমএ (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ এসোসিয়েশন) এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

 

ঢাকা চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রাইম-জোনে স্থাপিত বিটিএমসি’র মিলগুলোতে প্রায় ৬২৩.৯৫ একর জমি   (Developed land) রয়েছে। মিলগুলোতে স্থল, নৌ এবং বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সকল ইউটিলিটি সার্ভিসের সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। মিলগুলোর যন্ত্রপাতি ৩০/৪০ বছরের পুরানো প্রযুক্তির বিধায় সার্ভিস চার্জ পদ্ধতিতে পরিচালনা করে মিলের আয় দ্বারা উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। মিলগুলো আধুনিকায়নে সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব মিলগুলোর সম্পদ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবহারে বেসরকারি দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছে। তাই দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে পিপিপি ও যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধীকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিটিএমসি’র মিলগুলো পর্যায়ক্রমে পিপিপি ও যৌথউদ্যোগে বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিকায়ন ও নতুন গ্রীন প্রকল্প গ্রহণপূর্বক আধুনিক স্পিনিং, উইভিং, ডাইং-ফিনিশিং সম্বলিত কম্পোজিট টেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনার আওতায় ইতোমধ্যে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পিপিপি এর আওতায় বিটিএমসি’র ১৬টি মিল পরিচালনার জন্য  CCEA ( Cabinet Committee for Economic Affairs)-এ নীতিগত অনুমোদিত হয়েছে। ১৬টি মিলের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২টি মিলের (আহমেদ বাওয়ানী টেক্সটাইল মিলস্, ডেমরা, ঢাকা এবং কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস্, টঙ্গী, গাজীপুর) জন্য বিনিয়োগকারী/উদ্যোক্তা নিয়োগ ও চুক্তি স্বাক্ষরের খসড়া অনুমোদনের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গাইল কটন মিলের  আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।  বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় নিযুক্ত চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন মান্যবর রাষ্ট্রদুতদের সাথে আলাপ-আলোচনা. অব্যাহত আছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়মিত মত-বিনিময় অব্যাহত আছে।

 

বস্ত্র শিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ব মিলগুলোতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ ও সমন্বিত উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির বস্ত্রশিল্প স্থাপনে বিটিএমসি  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


Share with :

Facebook Facebook